• ২৭ পৌষ ১৪৩২, মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Eden Garden

খেলার দুনিয়া

শুভমন-র 'শুভ' হলোনা ইডেন টেস্ট! এই টেস্টে আর মাঠে নামছেন না গিল, বিসিসিআইয়ের সরকারি ঘোষণা

যা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাই সত্যি হল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেন্সে চলতি টেস্ট ম্যাচে আর খেলবেন না ভারতীয় অধিনায়ক শুভমন গিল। রবিবার সকালেই বিসিসিআই এক বিবৃতিতে জানিয়ে দিয়েছে, প্রয়োজন পড়লেও আর মাঠে নামার মতো অবস্থায় নেই তিনি। বোর্ডের পক্ষ থেকে বিবৃতী দিয়ে জানানো হয়েছে,কলকাতায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের খেলা চলাকালীন শুভমন গিল ঘাড়ে চোট পান। দিনের শেষে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। তিনি বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন এবং এই টেস্টে আর অংশ নিতে পারবেন না।হঠাৎ বেড়ে ওঠা ব্যথা, হাসপাতালে ভর্তি অধিনায়ক। শনিবার ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই ঘাড়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন গিল। ব্যথা কমানোর ওষুধ খেলেও তেমন আরাম মেলেনি। ব্যাট করতে নামার আগে এবং ম্যাচ চলাকালীনও ওষুধ খেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় দিনের নিজের তৃতীয় বলেই সাইমন হারমারকে স্লগ-সুইপ করতে গিয়ে ব্যথা ফের বাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ছুটে আসেন দলের ফিজিয়ো। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁকে মাঠ ছাড়তে বলা হয়।মাত্র তিন বল ক্রিজে থাকতে পেরেছিলেন গিল। ব্যথা এতটাই তীব্র ছিল যে ঘাড় ঘোরাতেই সমস্যায় পড়ছিলেন তিনি।এমআরআই রিপোর্টে পুরনো চোটের মিল.সন্ধ্যায় অ্যাম্বুল্যান্সে করে গিলকে দক্ষিণ কলকাতার উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই তাঁর এমআরআই স্ক্যান করা হয়। রিপোর্টে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর আগে গিল একই ধরনের চোট পেয়েছিলেন এবং সেই সময়কার রিপোর্টের সঙ্গে বর্তমান রিপোর্টের মিল পাওয়া গিয়েছে।২৬ বছর বয়সী হওয়ায় শরীরের সহনশক্তি ভালোচিকিৎসকেরা এটিকে পেন থ্রেশহোল্ড বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এ বার ব্যথার তীব্রতা এতটাই বেশি যে গিল তা সহ্য করতে পারছেন না। তাই চিকিৎসকেরা তাঁকে দলের সঙ্গে হোটেলে না রেখে পৃথকভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।গিলের পরবর্তী চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বিসিসিআইয়ের বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল প্যানেল।অধিনায়ক ছাড়াই কঠিন পরীক্ষায় ভারত, শনিবারই দলের অন্দরে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল যে পুরো ইডেন টেস্টই হয়তো গিলকে বাইরে বসে কাটাতে হবে। রবিবার সেই আশঙ্কাই সত্যি হল। এখন কঠিন, বাউন্সি ও অনিশ্চিত ইডেন পিচে অধিনায়ককে ছাড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে ভারতীয় দলকে।

নভেম্বর ১৬, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

একদিনে ১৫ উইকেট, সর্বোচ্চ ৩৯! আলোচনার কেন্দ্রে ইডেনের ২২ গজ

ইডেন গার্ডেন্সে ভারতদক্ষিণ আফ্রিকা টেস্ট ম্যাচের প্রথম দুদিন যেন ব্যাটসম্যানদের দুঃস্বপ্ন। কঠোর, অনিয়মিত বাউন্স, অতিরিক্ত সুইং আর সিম মুভমেন্টসব মিলিয়ে এমন এক পিচ তৈরি হয়েছে যেখানে ২২গজে টিকে থাকাই মুখ্য চ্যালেঞ্জ। ব্যাটারদের দুর্ভোগের চিত্র স্পষ্ট: দুদিনে মোট পড়ে গিয়েছে ২৬ উইকেট, আর পুরো ম্যাচে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান মাত্র ৩৯!ভারতের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে শুভমন গিলের হঠাৎ চোট। শুভমন গিল আহত হওয়ায় ভারতীয় ব্যাটিং এ এক ব্যাটার কম। শনিবার মাত্র তিন বল খেলেই মাঠ ছেড়ে উঠে যান শুভমন গিল। ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ায় তিনি প্রথম ইনিংসে আর ব্যাট করতে নামতেই পারেননি। ফলে ভারতকে খেলতে হয়েছে একজন কম ব্যাটার নিয়েযা এমন পিচে আরও বড় চাপ তৈরি করেছে।ফিল্ডিংয়েও তাঁর অনুপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। শুভমন সারাদিন মাঠে নামেননি, গিলের অনুপস্থিতে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সহ-অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। সুত্র মারফত জানা যায়, গিলের রবিবার মাঠে নামা নিয়েও ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ফিটনেস ভারতীয় ইনিংস ও কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তৃতীয় দিনে তাঁর অনুপস্থিতি ভারতের বিপক্ষে যেতে পারে বলে আশঙ্কা, বিশেষ করে যখন ম্যাচ মাত্র কয়েকটা সেশনেই নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।পিচে কী ধরণের আচরণ করছে?১) ইডেনের ইতিহাসে এমন পিচ বিরল নয়, কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেকটাই চরমে।২) বল নতুন অবস্থায় লাট্টুর মতো ঘুরছে।৩) শুকনো ঘাস থাকলেও বেস লেয়ার শক্ত ও ফাটল ধরা।৪) কিছু বল নিচু হচ্ছে, কিছু হঠাৎ লাফিয়ে উঠছে।৫) ব্যাটারদের টেকনিকের থেকেও ভাগ্য বড় ভূমিকা নিচ্ছে।এমন অবস্থায় টেস্ট ম্যাচের মান নিয়ে-ই প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের অনেকে বলছেনএটা বোলিং-ফেভার নয়, বরং ওভার-রিঅ্যাক্টিভ সারফেস। দর্শকের মধ্যেও অসন্তোষদুদিনেই আধা ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ার ছবি টেস্ট ক্রিকেটের ভাবমূর্তির পক্ষে ভালো নয়। যদিও বিদেশে পেস সহায়ক পিচেও এই ধরণের ফলাফল হামেসাই দেখা যায়। টপ অর্ডারের ব্যর্থতা ও ফিটনেস সমস্যা ভারতীয় দলকে সাময়ীক ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। ভারতীয় ব্যাটাররা শুরু থেকেই এই পিচে রান তুলতে মাথা খুঁড়ে মরছেন। দুই ওপেনারই ব্যার্থ। ঋষভ পন্থ সাময়িক প্রতিরোধের চেষ্টা করেন, দুটি চার ও দুটি ছক্কার সাহাজ্জ্যে ২৪ বলে ২৭ রান করেন।ভারতের প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের আগ্রাসন বিশেষ ভাবে লক্ষিত। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা পিচের গতি ও অনিয়মিত বাউন্সকে কাজে লাগিয়ে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়েছেন। শর্ট বল ও লেংথের মিশেলে ভারতীয় ব্যাটাররা বারবার ধরা পড়েছেন। স্পিনাররাও সাহায্য পাচ্ছেন, কারণ পিচের রুক্ষতা দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে।ইডেন গার্ডেন্সে এই টেস্ট ম্যাচ ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতা, দক্ষিণ আফ্রিকার ধারালো পেস আক্রমণ এবং শুভমন গিলের চোটসব মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এই বিতর্কিত ইডেন পিচ, যা দুদিনেই ম্যাচকে প্রায় শেষের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে।আগামী দিনে শুভমনের ফিটনেস এবং ভারতের পন্থের নেতৃত্বদুটোই ভারতের ভাগ্যে বড় প্রভাব ফেলবে। আর ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়ে আছেএই পিচে শেষমেশ কোন দল জয়লাভ করে?

নভেম্বর ১৫, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

১৭ বছরের অপেক্ষার অবসান—ফাইভ-ফর নিয়ে ইডেনে নতুন অধ্যায় লিখলেন বুমরাহ

যেখানে দলেই থাকেন জসপ্রীত বুমরাহ, সেখানে অধিনায়কের চিন্তা যেন অর্ধেক কমে যায়। আবারও সে কথাই প্রমাণ করে দিলেন ভারতীয় পেস সেনসেশন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ইডেনে যেন আগুন ছুড়লেন তিনি। মাত্র ২৭ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে একার হাতে গুছিয়ে দিলেন প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইন-আপকে। ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে টেস্টের প্রথম দিনেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার বিরল রেকর্ড গড়লেন বুমরাহ। ২০০৮ সালে আহমেদাবাদে এই কীর্তি করেছিল ডেল স্টেন। এবার ভারতীয় দর্শকরা সাক্ষী হলেন বুমরাহ ম্যাজিকের।ইডেনে শেষবার প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট দেখা গিয়েছিল ২০১৯ সালে, গোলাপি বলের ঐতিহাসিক টেস্টে, ইশান্ত শর্মার হাতে। প্রায় ছয় বছর বাদে বুমরাহও সেই তালিকায় নিজের নাম খোদাই করে দিলেন। তার সঙ্গে গড়ে ফেললেন আরও একাধিক রেকর্ড।২০১৮ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত টেস্টে সবচেয়ে বেশি বার ওপেনারদের আউট করার রেকর্ড এখন বুমরাহর দখলে। স্টুয়ার্ট ব্রডকে পিছনে ফেলে ১৩ বার প্রতিপক্ষের ওপেনিং ব্যাটারকে ফিরিয়ে দিলেন তিনি। ম্যাচের ১১তম ওভারে রিকলটনকে ফেরান, যিনি তখন মারমুখী মেজাজে ব্যাট করছিলেন। এরপর ১৩তম ওভারে আবার আঘাতপরাস্ত হন মার্করাম। দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনারদের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ৩১ ও ২৩।এতেই শেষ নয়। রিকলটনকে বোল্ড করেই আরেকটি ভারতীয় রেকর্ড ভেঙে ফেললেন বুমরাহ। বোল্ড করে সবচেয়ে বেশি উইকেট তোলার তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এলেন তিনি। ১৫২ জন ব্যাটারকে বোল্ড করে এবার অশ্বিনকে (১৫১) ছাপিয়ে গেলেন। তার ওপরে রয়েছেন কিংবদন্তি কপিল দেব (১৬৭) এবং তালিকার শীর্ষে অনিল কুম্বলে (১৮৬)।ইডেনে বুমরাহ যেন নিজের আলাদা মঞ্চ তৈরি করলেন। একের পর এক নিখুঁত ইয়র্কার, বাউন্সার আর গতি পরিবর্তনের ঝড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ভেঙে চুরমার। আবারও প্রমাণ হলভারতের টেস্ট দলকে যতক্ষণ বুমরাহ বোলিং আক্রমণের সামনে রয়েছেন, ততক্ষণ যে কোনও প্রতিপক্ষই সতর্ক না হয়ে পারে না।

নভেম্বর ১৪, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

ইডেন মানেই দুর্গ! কলকাতা পুলিশের ‘অপারেশন সেফ ক্রিকেট’ শুরু শুক্রবার থেকে

দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর গোটা দেশজুড়ে এখন লাল সতর্কতা। নিরাপত্তার নজরদারিতে তটস্থ রাজধানী থেকে রাজ্য পর্যন্ত। আর এই আতঙ্কের মধ্যেই শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার বহুল প্রতীক্ষিত টেস্ট ম্যাচ, সেই ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে। শহর এখন কার্যত নিরাপত্তার দুর্গে পরিণত। কলকাতা পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে একটুও ঢিলেমি নয়।ইডেনের ভেতর থেকে বাইরেটা পর্যন্ত এখন কড়া নিরাপত্তার বলয়ে ঢাকা। খেলা চলাকালীন মাঠের গ্যালারিতে সাধারণ পোশাকের পুলিশ অফিসার মিশে থাকবেন দর্শকদের মধ্যেই। মাঠ ঘিরে, ফেন্সিং বরাবর, ছাদে, টাওয়ারে সর্বত্র মোতায়েন করা হচ্ছে পুলিশ বাহিনী। যেন ক্রিকেট উৎসবের আনন্দে কোনও অঘটন না ঘটে।কয়েক দিন আগেই ইডেন গার্ডেন্স ঘুরে গিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। খুঁটিয়ে দেখেছেন মাঠের প্রতিটি নিরাপত্তা দিক। জানা গিয়েছে, গোটা ইডেনকে কয়েকটি জোনে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি জোনের দায়িত্বে থাকবেন একজন ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ও নয়জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার। গ্যালারিতে, ক্লাব হাউসে, এমনকি ভিআইপি বক্সেও আলাদা করে থাকবে পুলিশের সুরক্ষা বলয়।এখানেই শেষ নয় ইডেনের বিভিন্ন অংশে মোতায়েন থাকবে কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি, থাকবে সশস্ত্র বাহিনীও। বাইরে, ইডেন সংলগ্ন রাস্তাগুলিতেও তৈরি করা হচ্ছে বিশেষ পুলিশ বাঙ্কার, যেখানে কমব্যাট ফোর্সের সদস্যরা থাকবেন প্রস্তুত অবস্থায়। শুক্রবার ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে থেকেই আশপাশের রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।লালবাজার সূত্রে খবর, দিল্লি বিস্ফোরণের পরই কলকাতা পুলিশের তরফে জোর দেওয়া হয় খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তায়। ভারতীয় দলের প্রতিটি সদস্যের যাতায়াত, অনুশীলন, এমনকি হোটেল থেকে ইডেন যাওয়ার রাস্তাতেও বিশেষ নজর রাখা হবে। বলা হচ্ছে, এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা কলকাতায় শেষ দেখা গিয়েছিল ২০১৬ সালের বিশ্ব টি-টোয়েন্টির সময়।শহরের বুকের এই ক্রিকেট মন্দিরে এখন তাই উৎসবের উত্তেজনার সঙ্গে মিশে আছে অজানা আশঙ্কার ছায়া। তবে পুলিশ ও প্রশাসনের দাবি, ইডেন থাকবে সম্পূর্ণ নিরাপদ। ক্রিকেটপ্রেমীরা নিশ্চিন্তে উপভোগ করুন খেলা।

নভেম্বর ১৩, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

ক্রিকেটের নন্দনকানন সেজেছে হরমনপ্রীত কৌর অ্যান্ড কোং-র বিশ্বজয়ের কাটআউটে

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় উদযাপন সিএবির। ক্রিকেটের নন্দনকাননের সামনে হরমনপ্রীত কৌর অ্যান্ড কোং-কে অভিনন্দন জানিয়ে বিশাল কাটআউট লাগানো হয়েছে। সাজানো হয়েছে জার্সির রংয়ের নীল আলো দিয়ে।সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় লন্ডনে থাকাকালীনই একাধিক পরিকল্পনা করেছেন। তিনি গর্বিত, তৃপ্ত। কারণ, ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের অগ্রগতি, বিকাশের নেপথ্যে তো রয়েছে তাঁরই দূরদৃষ্টি।ম্যাচ গড়াপেটা কেলেঙ্কারিতে যখন ভারতীয় ক্রিকেটে টালমাটাল পরিস্থিতি, ক্রিকেটপ্রেমীরা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন, সেই পরিস্থিতি থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করিয়েছিলেন সৌরভ। গড়েছিলেন টিম ইন্ডিয়া। বিদেশে জেতা যায়, এই বিশ্বাস এনে দিয়েছিলেন। প্রশাসক হিসেবেও তাঁর রয়েছে একাধিক উল্লেখযোগ্য অবদান। যার অন্যতম দেশের মহিলা ক্রিকেটের বিকাশ। সৌরভ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মেয়েদের ক্রিকেট অনেক এগিয়ে গিয়েছে। আমি যখন ২০১৯ সালে বিসিসিআইয়ের সভাপতি হই তখন মেয়েদের ক্রিকেটকে সিরিয়াসলি দেখা হতো না। খুব ভালো জায়গায় ছিল না। এখন শেফালি ভার্মা, স্মৃতি মান্ধানা, হরমনপ্রীত কৌর, রেণুকা সিং, রিচা ঘোষদের দেখে খুব ভালো লাগে এই কারণে যে, আমরা যে কাজ করেছি তা সদর্থকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। ডব্লিউপিএল একটা বড় স্টেপিং স্টোন, যা ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের উন্নতি ঘটিয়ে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। সৌরভের কথায়, বিভাগ আলাদা হলেও মহিলা ক্রিকেটাররা পুরুষদের সম-বেতন পাচ্ছেন। তাঁরা এর যোগ্য। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জিতছে ভারত। ছটি বিশ্বকাপ জেতা মেগ ল্যানিং-সহ অস্ট্রেলিয়া দলে তাবড় ক্রিকেটাররা রয়েছেন। তবে ভারত পিছিয়ে নেই খুব একটা। কমনওয়েলথ গেমস ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে ভারত হারানোর পরিস্থিতিও তৈরি করে ফেলেছিল। তিন বছর আগেও কেউ ভাবতো না ভারতের মেয়েরা ইংল্যান্ডে গিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতবেন। খুব ভালো লাগে যখন ডাগ আউটে বসে দেখি শেফালি ভার্মা অবলীলায় ছয় মেরে বল গ্যালারিতে পাঠাচ্ছেন। সৌরভ মনে করেন, এ দেশে পুরুষদের চেয়ে মহিলা ক্রিকেটের অগ্রগতি অনেক দ্রুত হয়েছে। আর তার অন্যতম প্রধান ফ্যাক্টর ডব্লিউপিএল চালু করা। সিএবির এক বিবৃতিতে সৌরভ বলেছেন, আজ থেকে কুড়ি বছর আগে যখন পরিকাঠামোর অভাবে মেয়েদের ক্রিকেট লড়াই চালাচ্ছিল, তখন এর ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি লোক আশাবাদী ছিলেন না। সৌরভের কথায়, ক্রিকেটকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে সকল মহিলা কঠোর পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের সকলকে আমরা সাধুবাদ জানাই। যখন আমি বিসিসিআই সভাপতি হয়েছিলাম, তখন মেয়েদের ক্রিকেটের উন্নয়নে কাজ করতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত হই এবং এর ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ জয় কেবল শুরু, এখান থেকে মেয়েদের ক্রিকেট আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।সৌরভ বিসিসিআইয়ের সভাপতি হয়েছিলেন ২০১৯ সালে। তার কয়েক মাস পরেই করোনার ধাক্কায় স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা বিশ্ব। তাতেও মহিলা ক্রিকেট নিয়ে ভাবনা জারি রেখেছিলেন সৌরভ। আইপিএলের ধাঁচে মহিলাদের ক্রিকেট লিগ করার প্রক্রিয়াও এগোচ্ছিল। ডব্লিউপিএল আসার আগে মহিলাদের টি২০ চ্যালেঞ্জ টুর্নামেন্ট করতো বিসিসিআই। সৌরভই বোর্ড সভাপতি হয়ে জানিয়েছেন, বছর চারেকের মধ্যে ডব্লিউপিএল শুরু হবে। করোনা প্রতিবন্ধকতা না হলে সৌরভ বোর্ড সভাপতি থাকাকালীনই ডব্লিউপিএল শুরু হয়ে যেত। তা হয় জয় শাহ বোর্ড সচিব ও রজার বিনি বিসিসিআই সভাপতি থাকাকালীন। কোনও কিছু রাতারাতি হয় না। আইপিএলের ধাঁচে মেয়েদের ক্রিকেট করতে গেলে যত ভালো মানের ক্রিকেটার দরকার তা ২০১৯ সালে ভারতে ছিল না। সেজন্য দরকার ছিল পরিকাঠামো। তবে ডব্লিউপিএল প্রথমদিকে সাতটি দল নিয়ে করার কথা থাকলেও পাঁচটি দল নিয়ে শুরু হয়। ২০১৮ সালে মেয়েদের টি২০ চ্যালেঞ্জ হয়েছিল প্রদর্শনী ম্যাচ হিসেবে। ২০১৯ সালে তা তিন দলের টুর্নামেন্ট হয়। আন্তর্জাতিক স্তরে যাতে ঘরোয়া ক্রিকেটাররা সাফল্য পান সে কারণে মূল দলের বিদেশ সফরের আগে মেয়েদের ভারতীয় এ দল পাঠানোর সিদ্ধান্তও সৌরভেরই মস্তিষ্কপ্রসূত। শুধু তাই নয়, বিসিসিআই সভাপতি থাকাকালীন সৌরভ জোর দেন যাতে বিভিন্ন রাজ্য সংস্থাও প্রচুর পরিমাণে মহিলা ক্রিকেটারদের পুল তৈরি করতে পারে। সেটা সম্ভব হওয়াতেই ডব্লিউপিএলে বিভিন্ন রাজ্যের ক্রিকেটাররা বিদেশিদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম শেয়ার করছেন, নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরতে পারছেন। বিদেশের লিগেও তাঁরা খেলছেন। সারা দেশে মেয়েদের টুর্নামেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে।বাংলার ঝুলন গোস্বামীর কথা বাদ দিন, হরমনপ্রীত কৌর এক সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছেন তাঁর কেরিয়ারে সৌরভের কতটা অবদান। ডিরেক্টর অব ক্রিকেট হিসেবে সৌরভ নিজে দিল্লি ক্যাপিটালস দলের সঙ্গে যুক্ত। সেই দলেরই জেমাইমা রডরিগেজ, শেফালি ভার্মারা ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর। বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা হয়েছেন দীপ্তি শর্মা। উত্তরপ্রদেশের দীপ্তির ক্রিকেট কেরিয়ারের উত্থান কিন্তু বাংলা থেকেই। সেই সঙ্গে প্রথম বাঙালি হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেলেন রিচা ঘোষ। রিচার বাড়ি শিলিগুড়িতে।সৌরভ বা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় জোর দিয়েছেন বাংলার মেয়েদের ক্রিকেটেও। পরিকাঠামো থেকে শুরু করে সবরকম সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছেন। ইডেনে ক্রিকেটারদের থাকারও বন্দোবস্ত করেছেন তাঁরা। সর্বভারতীয় স্তরের টুর্নামেন্টে বাংলার মেয়েদের দল সাফল্যও পেয়েছে। স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় সভাপতি থাকাকালীন মেয়েদের ক্রিকেট টুর্নামেন্টেও জোর দিয়েছেন। জেলা থেকে প্রতিভা অন্বেষণ করে এনে মেয়েদের জন্য ভিশন প্রজেক্টও চালু করেছে সিএবি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় সিএবি সভাপতি হয়ে প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটারদের আরও বেশি সংগঠিত করে মেয়েদের ক্রিকেটে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।সচিন তেন্ডুলকর একটা সময় বলেছিলেন, কপিল দেবের নেতৃত্বে তিরাশির বিশ্বকাপ জিততে দেখে তিনি দেশের হয়ে ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন তাড়া করতে শুরু করেন। পরবর্তীকালে সচিন, সৌরভ হতে চেয়ে সারা দেশে কিটব্যাগ কাঁধে বাবা-মায়ের হাত ধরে প্রচুর প্রতিভাকে মাঠমুখী হতে দেখা গিয়েছিল। বাণিজ্যিক সংস্থা আগ্রহী হতে থাকে। যার ফলশ্রুতি, আকাশচুম্বী উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে ভারতের পুরুষদের ক্রিকেট। হরমনপ্রীতদের এই বিশ্বকাপ জয় নিশ্চিতভাবেই অনুপ্রাণিত করবে এখনকার ছোট ছোট মেয়েদের বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে। তবে এত সাফল্যের মধ্যেও মনে রাখতে হবে দেশের মহিলা ক্রিকেটের অগ্রগতির ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকী আইসিসির ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও বিশ্বজুড়ে মহিলাদের ক্রিকেটের অগ্রগতি, জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে যাঁর অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে। মনে পড়ে সেই কথা, বাংলাই কিন্তু পথ দেখায়।

নভেম্বর ০৪, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

টিকিট-গুজব নস্যাৎ সিএবির, পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জোরালো

সিএবির পদাধিকারী থেকে কমিটি সদস্যদের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগপত্র জমা পড়ছে ওম্বুডসম্যানের কাছে। তার মধ্যেই এবার প্রশ্ন উঠে গেল সিএবির ম্যাচ পর্যবেক্ষক যশোবন্ত বিশ্বাস সম্পর্কে। একজন পর্যবেক্ষক হয়ে তিনি নানাভাবে সিএবির বিরুদ্ধাচরণ কীভাবে করতে পারেন, উদ্দেশ্য কী, এর পিছনে আর্থিক লেনদেন জড়িত কিনা তা নিয়েই সংশয় বাড়ছে। ২০২৩-২৪ মরশুমে মহমেডান স্পোর্টিং-টাউন ক্লাব ম্যাচে গড়াপেটা হয় বলে অভিযোগ। প্রহসন দেখে দুই ক্লাবকে শোকজ করে সিএবি। বিষয়টি গিয়েছে ওম্বুডসম্যানের কাছে। বেশ কয়েকটি শুনানি হয়েছে। ম্যাচ রেফারি, পর্যবেক্ষক, আম্পায়ারদের রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হয়েছে। সব পক্ষের মতামত শোনা হয়েছে। সিএবি সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় প্রথম থেকেই এই ম্যাচটি নিয়ে হওয়া বিতর্কে কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন। সিএবি সূত্রে খবর, ওই ম্যাচে পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়ে সংশয় থাকায় আজ অবধি তাঁকে কোনও ম্যাচ দেওয়া হয়নি। তবে বছর দেড়েক হতে চললেও ওম্বুডসম্যানের দরবারে এই বিষয়টির নিষ্পত্তিও হয়নি। সিএবির অনেকেই চাইছেন, আগামী সেপ্টেম্বরে বার্ষিক সাধারণ সভার আগেই সত্য উদ্ঘাটিত হোক, দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ হোক।ওই ম্যাচেও টাউন ক্লাবের কর্তা তথা সিএবি যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাসের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছিল সিএবিতে। সম্প্রতি এই দেবব্রত দাসের বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি-সহ নানা অভিযোগ উঠছে। যার শুনানি চালাচ্ছেন ওম্বুডসম্যান। আর এখানেই বিষয়টিতে অন্য মাত্রা যোগ হয়েছে।ওই বিতর্কিত ম্যাচ নিয়ে যেখানে পর্যবেক্ষক ক্লিনচিট পাননি সেখানে তিনি কীভাবে অভিযুক্ত ক্লাবের অভিযুক্ত কর্তার হয়ে সওয়াল করতে পারেন সেই প্রশ্ন উঠছে। দেবব্রত দাসের বিরুদ্ধে ওঠা সাম্প্রতিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে যশোবন্ত যে তাঁর হয়ে ব্যাট ধরেছেন তার স্ক্রিনশট জমা পড়েছে সিএবিতে। এই অবস্থায় এসপার-ওসপার চাইছেন সিএবির অনেকেই। যশোবন্ত নানাভাবে যে সিএবি বিরোধিতা চালাচ্ছেন তাও নজরে রয়েছে সিএবির। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল অডিওতে (যার সত্যতা যাচাই করেনি জনতার কথা) সিএবি সভাপতি সম্পর্কে ছাপার অযোগ্য ভাষা প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে যশোবন্তর বিরুদ্ধে। বর্তমানে সিএবিতে তথাকথিত বিরোধী লবির গর্বিত সৈনিক বলে দাবি করে যশোবন্ত সাংবাদিকদের ভুয়ো তথ্য দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ এবং সেগুলি ফলাও করে পোস্ট করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এমনকী আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে সিএবির নির্বাচনে কাঁটা ছড়ানোর হুঁশিয়ারিও তিনি দিচ্ছেন বলেও সিএবি কর্তারা জানতে পেরেছেন। যদিও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তা বললেন, ওঁর পর্যবেক্ষক হওয়ার যোগ্যতা আছে কি? আর উনি কী বলছেন তাতে বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়বে না সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভায়, এমনকী নির্বাচন হলে তাতেও। স্বার্থসিদ্ধির জন্য এক পক্ষের পাত্তা না পেয়ে খানিকটা নিজে উদ্যোগী হয়েই অপর পক্ষের ঘনিষ্ঠ হয়ে ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা ছাড়া এ সব কিছু নয়। আর সাংবাদিকদের অবস্থা এত খারাপ হয়নি যে ওঁর কথা শুনে ভিত্তিহীন, একপেশে বা নেতিবাচক খবর করে নিজেরা বিপাকে পড়বেন। তবে এটাও ঠিক, মহমেডান-টাউন ম্যাচের তদন্তের দীর্ঘসূত্রিতা বরদাস্ত করা উচিত নয়। ভিনরাজ্যের ক্রিকেটার খেলানো নিয়ে টাউনের আপত্তি বা অভিযোগ জমার কথা পর্যবেক্ষক মহমেডানকে আগেভাগে জানিয়েছিলেন কিনা বা গড়াপেটায় তাঁর কী ভূমিকা, আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হোক। সিএবিতে জমা দেওয়া তাঁর রিপোর্ট আদৌ কতটা বিশ্বাসযোগ্য, যশোবন্তের সাম্প্রতিক আচরণ বা অবস্থান দেখে তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ থাকছেই। একদা যিনি দেবব্রতর সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন মহলে, তিনিই আবার কেন দেবব্রতকে নিয়ে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন, কোনওভাবে বাঁচার জন্যে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্ন তোলা হবে সিএবি সভাপতির কাছেও।এদিকে, গতকাল রটে গিয়েছিল সিএবি নাকি সংবিধান সংশোধন করে বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার ও সদস্যদের ম্যাচ টিকিট দেওয়া বন্ধ করতে চাইছে। যদিও এটি গুজব। সিএবি সভাপতি জানিয়েছেন, ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচ হোক বা আইপিএল, যাঁর জন্য যতগুলি করে টিকিট বরাদ্দ তাই দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আইসিসি ইভেন্ট, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, যে কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা আইপিএলেও সেই ধারা বজায় থাকবে। ফলে গুজবে কান দেবেন না।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সংবিধান সংশোধনের যে চিঠি সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়বে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। মুদ্রণ প্রমাদ-সহ খসড়া চিঠির কপি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই, কিছু মহলে বার্ষিক সাধারণ সভার আগে অসন্তোষ তৈরির উদ্দেশ্য নিয়েই। এতে সিএবিতেই ঘুঘুর বাসা আছে কিনা তা নিয়েও খোঁজ চলছে বলে জানা গিয়েছে।

জুলাই ২৪, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

কৌশিক যেন কামিন্দু! আইপিএলে দেখছেন ক্লার্ক

কৌশিক মাইতি যা পারেন তা তিনিও পারেন না। বক্তা অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। ডব্লিউটিসি ফাইনাল বা ভারত-ইংল্যান্ড সিরিজ নয়, ক্লার্ক রয়েছেন ইডেনের কমেন্ট্রি বক্সে। বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগের আসরে। সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। আগে তুলে ধরি কৌশিকে ক্লার্কের মুগ্ধতার কথা।কৌশিক মাইতি। দুই হাতেই বল করতে ও ঘোরাতে পারেন। এমনিতে ডানহাতি। তবে বাঁ হাতে ঠিক তেমন বোলিং অ্যাকশন দেখে অভিভূত ক্লার্ক। দোভাষী শ্রীবৎস গোস্বামীকে নিয়ে ক্লার্ক কথা বললেন কৌশিকের সঙ্গে। আরও পরিশ্রমের পরামর্শ দিয়ে বললেন, কৌশিক আইপিএলে খেলবেন। তাঁকে কেউ না নিলে অবাকই হবেন। স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়রা যে বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগ চালু করেছেন তার সার্থকতার অন্যতম উদাহরণ ক্লার্ক-কৌশিক কথোপকথন। উল্লেখ্য, আইপিএলের ইতিহাসে দু-হাতেই বল করতে পারেন এমন একমাত্র ambidextrous বোলার কামিন্দু মেন্ডিস। শ্রীলঙ্কার এই প্লেয়ার আছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদে। ক্লার্কের ভবিষ্যদ্বাণী মিললে, কৌশিক ভারতের প্রথম ambidextrous বোলার হিসেবে আইপিএলে জায়গা করে নিতেই পারেন, যার মঞ্চ হবে বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগ।না, ইডেনে ৫০-৬০ হাজার লোক এই লিগ দেখতে আসবেন সেই ভাবনা নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হয়নি। দর্শক সব সময় স্বাগত, ইডেনের দ্বার অবারিত, বিনামূল্যে খেলা দেখার বন্দোবস্ত করেছে সিএবি। কিন্ত স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এই লিগ চালু করেছেন বেশ কিছু লক্ষ্য সামনে রেখে। যার প্রথম হলো, বাংলার প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রতিভা মেলে ধরার সুযোগ করে দেওয়া। ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের আবহের মধ্যে থেকে।এই লিগকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্টার স্পোর্টস ও ফ্যানকোডে সম্প্রচার। দুর্ধর্ষ কমেন্ট্রি টিম। মাইকেল ক্লার্ক, ঝুলন গোস্বামী, মহম্মদ কাইফ, মন্টি পানেসর, চেতন শর্মা, নিখিল চোপড়া, রোহন গাভাসকর, অশোক মালহোত্রারা রয়েছেন। সঞ্চালিকাদের মধ্যে আছেন ম্যাথু হেডেনের কন্যাও। না, দেশের আর কোথাও টি২০ লিগে এমন তারকাখচিত কমেন্ট্রি টিম নেই। এর আরেকটি কারণ, তারকাদের কাছ থেকে প্রয়োজনে মূল্যবান টিপস নিয়ে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা। যে উৎসাহ কৌশিক ক্লার্কের কাছ থেকে পেলেন, তা ইডেনের প্রতিটি আসন ভর্তি থাকলেও হতো না!আইপিএল বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়ম ভাঙলে যেমন শাস্তির বিধান আছে তা আছে বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগেও। ক্রিকেটার বা কোচিং স্টাফদের ম্যাচ সাসপেনশন বা জরিমানা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে না কোন নাম কত বড়। এই লিগে এমন ব্যবস্থাপনায় ক্রিকেটাররা খেলার স্পিরিট, শৃঙ্খলার বিষয়ে সজাগ থাকবেন, যাতে বড় মঞ্চে গিয়ে মানিয়ে নিতে অসুবিধা না হয়। হক আই টেকনোলজি-সহ ডিআরএস রয়েছে। এতে আম্পায়ারিংয়ের মানের উন্নতি হতে বাধ্য, হচ্ছেও। আগেরবারের তুলনায় এবার টুর্নামেন্ট এগোচ্ছে মসৃণভাবে। যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে খেলা চালানো যাচ্ছে মাঠ ঢেকে রাখা-সহ সিএবির উন্নতমানের পরিকাঠামোর জন্যেই।কথা হচ্ছিল এই লিগের শুরু থেকে জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠের কাজে ২৪x৭ নিয়োজিত সিএবির ট্যুর অ্যান্ড ফিক্সচার ও টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় দাসের সঙ্গে। তিনি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করলেন। আইপিএল, ঘরোয়া বা আন্তর্জাতিক ম্যাচ নৈশালোকে হয়। বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগও হচ্ছে নৈশালোকে। এতে সুবিধা ক্রিকেটারদের। কারণ, সিএবির সাদা বলের সব টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ নৈশালোকে করা সম্ভব নয়। এই লিগের খেলা দিনেও হচ্ছে, রাতেও হচ্ছে সমান তালে। ফলে নৈশালোকে খেলার অভিজ্ঞতাও বাড়ছে ক্রিকেটারদের। যা সর্বভারতীয় টুর্নামেন্ট খেলার সময় তাঁদের লাভবানই করবে।

জুন ২৫, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

বৃষ্টির মোকাবিলায় ইডেন সেরা, মাঠ ভরানোর আহ্বান মনোজের

আজও বৃষ্টিতে ব্যাহত বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগের খেলা। কয়েক দিন ধরেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি চলছে। যার জেরে বেঙ্গল প্রো টি২০ লিগের খেলাগুলি পরিত্যক্ত হচ্ছে। ইডেনে বৃষ্টি থামার পর খেলা শুরু হলেও ফের অবিরাম বর্ষণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। তবে গতকাল যা হলো তা অন্য কোথাও আর হতে পারতো না।সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের মস্তিষ্কপ্রসূত ভাবনাতেই ইডেনের গোটা মাঠ ঢেকে রাখার বন্দোবস্ত হয়েছে। উন্নতমানের কভার আনিয়ে। এমনকী ইডেনের মতো সল্টলেক যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মাঠেও মাঠ ঢেকে রাখা হয় প্রধান কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অনবদ্য টিম যার ফলে বৃষ্টি থামার কিছুক্ষণের মধ্যেই মাঠ খেলার উপযুক্ত করে দিতে পারেন। ইডেনের এমন ব্যবস্থাপনা বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়াম আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেও নেই। সুনীল গাভাসকর-সহ অনেকেই তাই বলে থাকেন মাঠ ঢাকার ব্যবস্থাপনায় ইডেনকে অনুসরণ করতে। এই ব্যবস্থাপনার সুফল মিলল আরও একবার। গতকাল বৃষ্টি একটু ধরতেই রাতে ৯ ওভারের ম্যাচ হলো। হারবার ডায়মন্ডস ৪০ রানে হারাল লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্সকে। যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে শহরে তাতে অন্য কোথাও এটা সম্ভব হতো না। হলো মাঠ ঢাকার ব্যবস্থা ছিল বলেই। হারবার ডায়মন্ডস অধিনায়ক তথা রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি অনুরোধ করেছেন সকলকে কাজ সেরে মাঠে এসে তরুণ ক্রিকেটারদের উৎসাহিত করার জন্য। এই লিগে বিনামূল্যে খেলা দেখা যায়। এমনকী হারবার ডায়মন্ডসের সমর্থকদের জল, ইলেক্টোরাল, কেক দেওয়ার কথাও মনোজ বলেছেন। তার কারণ ক্রিকেটারদের উৎসাহিত করতে সমর্থকদের উপস্থিতি দরকার। গ্যালারির সিংহভাগ ফাঁকা থাকছে। যে লিগের সম্প্রচার স্টার স্পোর্টসে চলছে সেখানে এমন ফাঁকা গ্যালারি মোটেই ভালো বিজ্ঞাপন নয়।

জুন ১৯, ২০২৫
খেলার দুনিয়া

কোহলির মঞ্চে ইডেন মাতিয়ে নায়ক রজত পতিদার

বিরাট কোহলির আকর্ষনেই বুধবার ইডেন ভরিয়েছিলেন দর্শকরা। কোহলি কিন্তু হতাশ করলেন ইডেনকে। তাঁর ব্যর্থতা ঢেকে ক্রিকেটের স্বর্গোদ্যান মাতিয়ে গেলেন রজত পতিদার। তাঁর দুরন্ত ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে এলিমিনেটরের প্রথম ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে বড় রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। নির্ধারিত ২০ ওভারে তুলল ২০৭/৪। দুরন্ত সেঞ্চুরি করলেন রজত পতিদার।ইডেনের আকাশ জুড়ে কালো মেঘের ঘনঘটা। বৃষ্টিও শুরু হয়েছিল। তড়িঘড়ি গোটা ইডেন ঢাকা হয় সাদা কভারে। আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আদৌও ম্যাচ হবে তো? বৃষ্টি বন্ধ হতেই উঠল কভার। ম্যাচ শুরু হল নির্ধারিত সময়ের ৪০ মিনিট পর। টস জিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সকে ব্যাট করতে পাঠান লখনউ সুপার জায়ান্টস অধিনায়ক লোকেশ রাহুল।ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল হয়নি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের। প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে আউট রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি। এদিন তিনি গোল্ডেন ডাকের শিকার। কোনো রান না করেই মহসিন খানের বলে উইকেটের পেছনে কুইন্টন ডিককের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।ইডেনের দর্শকরা এদিন মাঠ ভরিয়েছিলেন কোহলির টানে। কোহলিপ্রেমীরা আশা করেছিলেন মাঠ মাতাবেন তাঁদের প্রিয় ক্রিকেটার। ভাল শুরুও করেছিলেন। ব্যাটে লম্বা ইনিংসের ইঙ্গিত ছিল। কিন্তু ইডেনের গ্যালারির প্রত্যাশাপূরণ করতে পারলেন না কিং কোহলি। ২৪ বলে ২৫ রান করে আবেশ খানের বলে মহসিন খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। ১০ বলে মাত্র ৯ রান করে তিনি ক্রূণাল পান্ডিয়ার বলে এভিন লুইসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।দলের সেরা ব্যাটাররা আউট হলেও ইডেনের বাইশ গজে নিজেকে দারুণভাবে মেলে ধরেন রজত পতিদার। ২৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এরপর তাঁকে আর আটকানো যায়নি। একবার জীবন পেয়ে রীতিমতো তান্ডব শুরু করেন। মহসিন খানকে ৬ মেরে আইপিএলে জীবনের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তাঁর সেঞ্চুরি আসে মাত্র ৫১ বলে। একটা সময় মনে হচ্ছিল বড় রানে পৌঁছতে পারবে না রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। কিন্তু রজত পতিদারের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে ২০০ রানের গন্ডি টপকে যায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। ৫৪ বলে ১১২ রান করে অপরাজিত থাকেন পতিদার। তাঁকে সহযোগিতা করেন দীনেশ কার্তিক (২৩ বলে অপরাজিত ৩৭)। মহীপাল লোমরোর করেন ১৪। লখনউর হয়ে ১টি করে উইকেট নেন মহসিন খান, ক্রূণাল পান্ডিয়া, আবেশ খান ও রবি বিষ্ণোই।

মে ২৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌রোহিতকে আবার দুহাত ভরে দিল ইডেন, টি২০ সিরিজ জয় ভারতের

রোহিত শর্মা ইডেনের বরপুত্র। ক্রিকেটের নন্দনকানন কখনও তাঁকে খালি হাতে ফেরায়নি। অধিনায়ক হিসেবে ইডেনেই প্রথম টি২০ সিরিজ জিতেছিলেন রোহিত। টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয়। একদিনের সিরিজে হোয়াইট ওয়াসের পর টি২০ সিরিজেও ঘুরে দাঁড়াতে পারল না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ইডেনে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ক্যারিবিয়ানদের ৮ রানে হারিয়ে টি২০ সিরিজও জিতে নিল ভারত। আগের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ভুগতে হয়েছিল ক্যারিবিয়ানদের। দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে পরে ব্যাট করেও জয়ের রাস্তায় ফিরতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টস জিতে এদিন ভারতকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক কিয়েরন পোলার্ড। শুরুটা ভাল হয়নি ভারতের। দ্বিতীয় ওভারেই ফিরে যান ঈশান কিশান (২)। এরপর জুটি বেঁধে ভারতকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন অধিনায়ক ও সহঅধিনায়ক। জুটিতে ওঠে ৪৯ রান। অস্টম ওভারে ছন্দপতন। রস্টন চেজের বলে ব্রেন্ডন কিংয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন রোহিত (১৯)। সূর্যকুমার যাদব (৮) দলকে নির্ভরতা দিতে পারেননি। নিজস্ব মেজাজে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন বিরাট কোহলি। ৪১ বলে ৫২ রান করে রস্টন চেজের বলে বোল্ড হন তিনি। এরপর ভারতে ১৮৬/৫ রানে পৌঁছে দেন ঋষভ পন্থ ও ভেঙ্কটেশ আয়ার। ১৮ বলে ৩৩ রান করে আউট হন ভেঙ্কটেশ। ২৮ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন ঋষভ। রস্টন চেজ ২৫ রানে ৩ উইকেট নেন।জয়ের জন্য ১৮৭ রানের লক্ষ্য খুব একটা সহজ ছিল না ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে। তবে ভাল শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার। ষষ্ঠ ওভারে আউট হন কাইল মেয়ার্স (৯)। তাঁকে তুলে নেন যুজবেন্দ্র চাহাল। ব্রেন্ডন কিং ৩০ বলে ২২ রান করে রবি বিষ্ণোইয়ের বলে আউট হন। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেনে নিয়ে যান নিকোলাস পুরান ও রভম্যান পাওয়েল। জুটিতে ওঠে ১০০। এই জুটিই ক্যারিবিয়ানদের জয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। ভুবনেশ্বর কুমার এসে জুটি ভাঙেন। তুলে নেন নিকোলাস পুরানকে (৬২)। রভম্যান পাওয়েল লড়াই করেও দলকে জেতাতে পারেননি। ৩৬ বলে ৬৮ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ১৭৮/৩ রানে থেমে যায় ক্যারিবিয়ানদের ইনিংস। ভারতের হয়ে ভুবনেশ্বর কুমার, যুজবেন্দ্র চাহাল ও রবি বিষ্ণোই ১টি করে উইকেট নেন।

ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‌স্বপ্নের অভিষেক রবি বিষ্ণোইয়ের, ইডেনে জয় দিয়ে শুরু ভারতের

একদিনের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইট ওয়াশ করার পর টি২০ সিরিজেও দারুণভাবে শুরু করল ভারত। ইডেনে প্রথম ম্যাচেই ক্যারিবিয়ানদের হারাল ৬ উইকেটে। দুর্দান্ত বোলিং করে ইডেনে স্বপ্নের অভিষেক রবি বিষ্ণোইয়েই। আরও একটা বরপুত্র পেল ক্রিকেটের নন্দন কানন।শিশিরের কথা মাথায় রেখে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। প্রথম ওভারেই ধাক্কা খায় ক্যারিবিয়ানরা। পঞ্চম বলে ব্রেন্ডন কিংকে (৪) তুলে নেন ভুবনেশ্বর কুমার। প্রথম ওভারে উইকেট হারালেও খুব বেশি চাপে পড়েনি ক্যারিবিয়ানরা। পরিস্থিতি সামাল দেন কাইল মেয়ার্স ও নিকোলাস পুরান। মেয়ার্সকে তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন যুজবেন্দ্র চাহাল। ২৪ বলে ৩১ করেন মেয়ার্স। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মিডল অর্ডারে ধস নামান রবি বিষ্ণোই। দেশের জার্সি গায়ে অভিষেক ম্যাচেই নজর কাড়লেন দেশের এই প্রতিশ্রুতিবান লেগ স্পিনার। তাঁর ও যুজবেন্দ্র চাহালের দাপটে মিডল ওভারে একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি ক্যারিবিয়ান ব্যাটাররা। রান তোলার গতি অনেকটাই শ্লথ হয়ে যায়।লং অফ বাউন্ডারিতে দাঁড়িয়ে শুরুতেই বড় ভুল করে ফেলেছিলেন রবি বিষ্ণোই। যুজবেন্দ্র চাহালের বলে নিকোলাস পুরানের ক্যাচ ধরে বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করে ফেলেন। শুরুতে জীবন পেয়ে দলকে টেনে নিয়ে যান পুরান। তবে ম্যাচের একাদশ ওভারে প্রায়াশ্চিত্য করেন রবি বিষ্ণোই। দ্বিতীয় বলে তাঁর স্পিনের ফাঁদে পড়ে এলবিডব্লু হন রস্টন চেজ (৪)। পঞ্চম বলে তুলে নেন রভম্যান পাওয়েলকে (২)। বিষ্ণোইয়ের এই জোড়া ধাক্কা সামলাতে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। পরপর ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। রান তোলার গতিও কমে যায়। এরপরই আকিল হোসেনকে (১০) তুলে নেন যুজবেন্দ্র চাহাল। এরপর দলকে টেনে নিয়ে যান নিকোলাস পুরান ও অধিনায়ক নিকোলাস পুরান। শেষপর্যন্ত ৪৩ বলে ৬১ রান করে হর্ষল প্যাটেলের বলে বিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন পুরান। দলকে ১৫৭/৭ রানে পৌঁছে দেন অধিনায়ক কিয়েরন পোলার্ড। ১৯ বলে ২৪ রান করে তিনি অপরাজিত থাকেন। রবি বিষ্ণোই ১৭ রানে ২ উইকেট নেন। ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন হর্ষল প্যাটেল। ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করে ভারত। রোহিত শর্মা ইডেনের বরপুত্র। ইডেন তাঁকে কখনও খালি হাতে ফেরায়নি। এদিনও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে। তাঁর দাপটেই ৫ ওভারে ৫৭ রানে পৌঁছে যায় ভারত। অস্টম ওভারে ছন্দপতন। রস্টন চেজের বল গ্যালারিতে পাঠাতে গিয়ে আউট রোহিত। ততক্ষণে তাঁর নামের পাশে ১৯ বলে ৪০ রান। ওপেনিং জুটিতে ঈশান কিশানের সঙ্গে তোলেন ৬৪। রোহিত ফিরে যাওয়ার পর ভারতকে টানছিলেন ঈশান ও কোহলি। ৪২ বলে ৩৫ রান করে সেই রস্টন চেজের বলেই দ্বাদশ ওভারে আউট হন ঈশান। পরের ওভারেই কোহলিকে (১৩ বলে ১৭) তুলে নিয়ে ভারতকে চাপে ফেলে দেন ফাবিয়ান অ্যালেন। চার নম্বরে নেমে ঋষভ পন্থও (৮) ব্যর্থ। তিনি শেলডন কটরেলের শিকার। ১১৪ রানে ৪ উইকেট হারায় ভারত। এরপর দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন সূর্যকুমার যাদব ও ভেঙ্কটেশ আয়ার। ১৮.৫ ওভারে ১৬২/৪ রান তুলে জিতে নেয় ভারত। ১৮ বলে ৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন সূর্যকুমার যাদব। ১৩ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ভেঙ্কটেশ আয়ার।

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২২
খেলার দুনিয়া

‘‌ইডেনে অন্য খেলা হবে’, কেন একথা বললেন কিয়েরন পোলার্ড?‌ ‌

ক্রিকেট খেলিয়ে বিশ্বের সেরা দেশগুলিকে যদি ধারাবাহিকতার নিরিখে বিচার করা হয়, সবথেকে পিছিয়ে থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একসময় গোটা ক্রিকেট বিশ্ব ক্যারিবিয়ানদের আতঙ্গে ভুগত। সেই দিন আর নেই। এখন আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ডের মতো দলগুলিও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিচ্ছে। সুতরাং ভারতের মতো দেশও যে হারাবে, এতে আবার নতুনত্ব কোথায়। একদিনের সিরিজে রোহিত শর্মা ব্রিগেডের কাছে পর্যুদস্ত হয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। এবার টি২০ সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। ভারত যতই একদিনের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইট ওয়াশ করুক টি২০ ক্রিকেটে অন্য খেলা হবে। ইডেনে টি২০ সিরিজ শুরু হওয়ার আগের দিন ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে তেমনই ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক কিয়েরন পোলার্ড।ভারতের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজে মাঠে নামার আগে পোলার্ড বলেন, একদিনের সিরিজে কী হয়েছে সেটা মাথায় রাখছি না। নতুন সিরিজ শুরু হচ্ছে। এই ফর্ম্যাটে আমরা ভাল খেলি। টি২০ সিরিজের জন্য নির্দিষ্ট কিছু পরিকল্পনা আছে। পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে পারলে সিরিজ জিততে সমস্যা হবে না। আমাদের দলের ধারাবাহিকতার অভাব আছে, সেকথা মানছি। কিন্তু এই ফর্ম্যাটে সব দলকেই আমাদের সমীহ করতে হবে। কথাটা ভুল বলেননি ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক। টি২০ অভিজ্ঞতার নিরিখে তাঁর দল সত্যিই শক্তিশালী। সাই হোপ, নিকোলাস পুরান, জেসন হোল্ডাররা সারা বছর ধরে বিশ্বের বিভিন্ন টি২০ লিগে খেলে বেড়ান। আর আইপিএল খেলার সুবাদে এখানকার পরিবেশ, ভারতীয় ক্রিকেটারদের হাতের তালুর মতোই চেনেন। তাই টি২০ সিরিজের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাসী গোটা ক্যারিবিয়ান শিবির।ইডেনের বাইশ গজ নিয়ে খুশি ক্যারিবিয়ানরা। বুধবার অনুশীলনের আগে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে উইকেট পরীক্ষা করেন পোলার্ড। ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, উইকেটে বল ভাল ক্যারি করবে। বাউন্স আছে। দারুণ উইকেট। তবে রাতের দিকে শিশিরের জন্য বোলারদের সমস্যায় পড়তে হবে। পোলার্ডের কথাতেই ইঙ্গিত, টস জিতলে আগে ব্যাটিং করার ঝুঁকি নেবেন না।

ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২২

ট্রেন্ডিং

দেশ

১৯৭১-এর যুদ্ধনায়ককে কেন ডাকা হল এসআইআর শুনানিতে? মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের বুকে কাঁপন ধরানো প্রাক্তন নৌসেনাপ্রধান অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশকে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর শুনানিতে তলব করা ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রাক্তন নৌসেনাপ্রধানকে কেন পরিচয় প্রমাণের জন্য নোটিস পাঠানো হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই সোমবার মুখ খুলল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।এসআইআর শুনানির নোটিস পাওয়ার পর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অ্যাডমিরাল প্রকাশ। তাঁর পোস্ট সামনে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, অ্যাডমিরাল প্রকাশের জমা দেওয়া এনুমারেশন ফর্মে পূর্ববর্তী এসআইআর সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল না। সেই কারণেই তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।এলাকার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার মেডোরা এরমোমিল্লা ডিকোস্টা জানান, এনুমারেশন ফর্মে ভোটারের নাম, এপিক নম্বর, আত্মীয়ের নাম, বিধানসভা কেন্দ্রের নাম ও নম্বর, অংশ নম্বর এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ ছিল না। ফলে বিএলও অ্যাপের মাধ্যমে নতুন ফর্মের সঙ্গে পুরনো ভোটার তালিকার স্বয়ংক্রিয় মিল করা সম্ভব হয়নি। শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকলেই এই ধরনের ক্ষেত্রে শুনানির জন্য ডাকা হয় বলে জানান তিনি।১৯৭১ সালের যুদ্ধে বায়ুসেনার পাঞ্জাব স্কোয়াড্রনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিমান চালিয়েছিলেন অ্যাডমিরাল অরুণ প্রকাশ। সেই সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি বীর চক্র পান। প্রায় ৪০ বছর নৌসেনায় কাজ করেছেন তিনি। ফাইটার স্কোয়াড্রন, এয়ার স্টেশন, আইএনএস বিরাট-সহ মোট চারটি যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা করেছেন। নৌসেনাপ্রধান থাকাকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারও করেছিলেন তিনি।নোটিস পাওয়ার পর কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অ্যাডমিরাল প্রকাশ লেখেন, এসআইআর ফর্মে যদি প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়া যায়, তাহলে ফর্ম সংশোধন করা উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, বিএলও তিনবার তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন, তখনই অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া যেত। তাঁর অভিযোগ, তিনি ও তাঁর স্ত্রী যথাক্রমে ৮২ ও ৭৮ বছর বয়সে পৌঁছেছেন, অথচ তাঁদের বাড়ি থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, তাও আবার আলাদা আলাদা দিনে।এই মন্তব্য সামনে আসার পরই বিতর্ক তীব্র হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফের জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় শনাক্তকরণ তথ্য না থাকলে বিএলও অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ম্যাপিং করতে পারে না। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে কমিশন।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
বিদেশ

ইরানে বিক্ষোভে গ্রেপ্তার ভারতীয়রা? অভিযোগ উড়িয়ে মুখ খুলল তেহরান

খামেনেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল ইরান। সেই অশান্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে খবর, অন্তত ছজন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুধু ভারতীয় নয়, বিক্ষোভ দমনের নামে অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও নাকি আটক করছে ইরানের প্রশাসন। এই অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তবে এই সব দাবি নিয়ে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলল তেহরান।মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, ইরানে চলমান বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে যে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ছজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁরা জড়িত ছিলেন। তবে এই খবরকে কার্যত ভুয়ো বলে দাবি করেছেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি।এক্স হ্যান্ডেলে একটি সংবাদ প্রতিবেদন শেয়ার করে ইরানের রাষ্ট্রদূত লেখেন, ইরান নিয়ে বিদেশি বহু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। তিনি সকলকে নির্ভরযোগ্য ও সরকারি সূত্র থেকে খবর জানার অনুরোধ জানান। যদিও বাস্তবে ইরান থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত বন্ধ। পাশাপাশি বিদেশে ফোন করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। ফলে মৃত ও গ্রেপ্তারির প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসেবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।এই পরিস্থিতিতে ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়াদিল্লি। সরকারিভাবে কিছু ঘোষণা না করা হলেও কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, ইরানের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে সেখানকার প্রবাসী ভারতীয়দের কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়েও প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কাও ঘনীভূত হচ্ছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে যে কোনও মুহূর্তে ইরানে সামরিক পদক্ষেপ করতে পারে আমেরিকা, এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর এই জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।আমেরিকার সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন ট্রাম্প। এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলেও মার্কিন প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, ইরানে হামলার বিকল্প ভাবছেন তিনি। তেহরান-সহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাঁটিতে আঘাত হানার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক অভিযোগ! মমতার বিরুদ্ধে ‘চুরি-ডাকাতি’র তুলনা ইডির

আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। একটি পিটিশন দায়ের করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নিজে। অন্যটি দায়ের করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। এই দুই মামলাতেই রাজ্য সরকারের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি দক্ষিণ প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে।ইডির দায়ের করা পিটিশনে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, পিটিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইডি অভিযানের সময় অযাচিত প্রবেশ এবং একটি ফাইল নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনাকে চুরি ও ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করেছে তদন্তকারী সংস্থা। শুধু তাই নয়, ইডির কাজে যে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে পিটিশনে।এই মামলায় নিজেদের যুক্তি জোরদার করতে ইডি অতীতের তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, যা আইনের শাসনের পরিপন্থী।পিটিশনে প্রথম যে ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তা ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারির। সারদা মামলায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারির। কয়লা পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই তাঁদের বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই সেখানে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃতীয় ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৭ মে-র। নারদ মামলায় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর নিজাম প্যালেসে গিয়ে সিবিআইয়ের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই দাবি ইডির।এতেই শেষ নয়। কলকাতা হাইকোর্টে একটি শুনানি ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যেও তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, শাসকদলের কর্মী-সমর্থকেরা হোয়াটসঅ্যাপ মারফত বার্তা পাঠিয়ে জমায়েত করেছিলেন।এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের কাছে একাধিক আবেদন জানিয়েছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী যে বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে কোনও তথ্য যেন ডিলিট বা ক্লোন না করা হয়, সেই নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়লা পাচার তদন্তে যুক্ত কোনও কেন্দ্রীয় আধিকারিকের বিরুদ্ধে যেন কলকাতা বা বাংলার কোনও থানায় এফআইআর গ্রহণ না করা হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। শেক্সপিয়ার সরণী থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর স্থগিত রাখার আর্জিও জানানো হয়েছে। সবশেষে আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের দাবিও তুলেছে ইডি।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

ইডি হানার পরই রাজ্যে বিশেষ বাহিনী! RAF নামল কলকাতায়

ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যে পাঠানো হল সিআরপিএফের বিশেষ বাহিনী। গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের অফিস এবং আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই সময় সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, তিনি কিছু নথি ও হার্ডডিস্ক সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। এই ঘটনার পরেই রাজ্যে আসে সিআরপিএফের এক কোম্পানি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা RAF।সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে এই এক কোম্পানি RAF বাংলায় পাঠানো হয়েছে। আপাতত বাহিনীটিকে রাজারহাটের সিআরপিএফ ক্যাম্পে রিজার্ভে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি ইডি বা অন্য কোনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তল্লাশিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে, অথবা কোনও বড় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে এই RAF বাহিনীকে কাজে লাগানো হবে।বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে কোনও রাজনৈতিক উত্তেজনা বা হিংসার ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হতে পারে এই বিশেষ বাহিনীকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় RAF-এর কাছে রয়েছে বিশেষ গাড়ি ও অত্যাধুনিক সরঞ্জাম, যা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।এদিকে আইপ্যাক-কাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিরাপত্তা নিয়েও বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে রয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের দফতর। সিবিআই সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ওই কমপ্লেক্সে কোনও আধাসেনা মোতায়েন ছিল না। নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল একটি বেসরকারি সংস্থা। তবে সাম্প্রতিক ঘটনার পর সিজিও কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।আইপ্যাক-কাণ্ড ঘিরে রাজ্য ও কেন্দ্রের সংঘাতের আবহে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
দেশ

হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ? এসআইআর মামলায় নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় শীর্ষ আদালত

ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে নোটিস পাঠিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ ডেরেক ওব্রায়েন এবং দোলা সেনের করা মামলার ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।এদিন এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে। রাজ্যে চলা নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে আলাদা করে মামলা করেছিলেন দুই তৃণমূল সাংসদ। সেই মামলার শুনানিতেই এদিন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সাংসদদের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল।শুনানিতে কপিল সিব্বল অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক গাফিলতি ও অনিয়ম হয়েছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন বহু ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠাচ্ছে, যা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরও জানান, বাংলার বহু ভোটারকে অযৌক্তিক ভাবে চিহ্নিত করে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। কমিশনের তরফে যে সব অমিল বা লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সির কথা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই বাস্তবে অযৌক্তিক বলে দাবি করেন তিনি।আইনজীবীর এই যুক্তি শুনে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব তলব করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্দেশে কমিশনের উদ্দেশে নোটিস জারি করা হয়। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জবাব দিতে তাদের দুসপ্তাহ সময় প্রয়োজন। কিন্তু প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই সপ্তাহের মধ্যেই হলফনামা জমা দিতে হবে।আদালত জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

আরএসি নেই, ওয়েটিং নেই! বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন নিয়ে বড় ঘোষণা রেলের

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা। তারপরই বাংলা থেকে গড়াতে চলেছে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের চাকা। হাওড়া থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত চলবে এই নতুন প্রিমিয়াম ট্রেন। আগামী ১৭ জানুয়ারি মালদহ স্টেশন থেকে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ট্রেন চালু হওয়ার খবরে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ তুঙ্গে।এবার বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন নিয়ে বড় আপডেট সামনে আনল রেল। জানানো হয়েছে, এই ট্রেনে কোনও আরএসি বা ওয়েটিং লিস্ট টিকিট থাকবে না। শুধুমাত্র কনফার্ম টিকিটেই যাত্রা করা যাবে। অর্থাৎ টিকিট কাটলে সিট বা বার্থ নিশ্চিত থাকবেই।রেল সূত্রে খবর, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের ন্যূনতম ভাড়া ধরা হয়েছে ৪০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য। রাজধানী এক্সপ্রেস বা শতাব্দী এক্সপ্রেসের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেনের ভাড়া সামান্য বেশি হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে যাত্রীদের জন্য থাকবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ট্রেনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ থাকবে। পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্যও আলাদা কোটা থাকছে। ডিউটি পাস কোটার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।ভাড়ার হিসাব অনুযায়ী, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে ৩এসি শ্রেণিতে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ধরা হয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সা। ২এসি শ্রেণিতে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া হবে ৩ টাকা ১০ পয়সা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রতি কিলোমিটারে ৩ টাকা ৮০ পয়সা।যেহেতু ন্যূনতম ৪০০ কিলোমিটারের ভাড়া নেওয়া হবে, তাই ৩এসি শ্রেণিতে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রার জন্য খরচ পড়বে ৯৬০ টাকা। ২এসি শ্রেণিতে এই ভাড়া হবে ১২৪০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া পড়বে ১৫২০ টাকা। এই ভাড়ার সঙ্গে অতিরিক্ত জিএসটি যোগ হবে।হাওড়া থেকে গুয়াহাটির দূরত্ব প্রায় ১০০০ কিলোমিটার। এই পথে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনে ৩এসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রায় ২৪০০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ৩১০০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া পড়বে প্রায় ৩৮০০ টাকা।রেল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে ২০০০ কিলোমিটার দূরত্বের যাত্রায় ৩এসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রায় ৪৮০০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ৬২০০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ৭৬০০ টাকা। ৩০০০ কিলোমিটার দূরত্বের ক্ষেত্রে ৩এসি শ্রেণিতে ভাড়া হবে প্রায় ৭২০০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ৯৩০০ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ভাড়া পৌঁছবে প্রায় ১১ হাজার ৪০০ টাকায়।বর্তমানে হাওড়া থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত চলা সরাইঘাট এক্সপ্রেসে সর্বোচ্চ ভাড়া ৩এসি শ্রেণিতে ১৪১০ টাকা, ২এসি শ্রেণিতে ১৯৮৫ টাকা এবং ওয়ানএসি শ্রেণিতে ৩৩২০ টাকা।সময়সূচি অনুযায়ী, হাওড়া থেকে গুয়াহাটিগামী বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে এবং পরের দিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে গুয়াহাটিতে পৌঁছবে। গুয়াহাটি থেকে এই ট্রেন ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ এবং পরের দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে হাওড়ায় পৌঁছবে। সপ্তাহে ছয় দিন এই ট্রেন চলবে। বৃহস্পতিবার ট্রেনটি চলবে না।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
রাজ্য

কাজের কাগজেই ভোটাধিকার! উত্তরবঙ্গের চা বাগান শ্রমিকদের জন্য বড় ছাড় নির্বাচন কমিশনের

উত্তরবঙ্গের চা এবং সিঙ্কোনা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ছাড় ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে এবার কাজের নথিই যথেষ্ট বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে বহু বাগান শ্রমিকের ভোটাধিকার পাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হল।রবিবার এই সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পাঠিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তুলতে হলে সংশ্লিষ্ট চা বা সিঙ্কোনা বাগানে কাজ করার প্রমাণপত্র জমা দিলেই হবে। তবে তার সঙ্গে বৈধ বাসস্থানের প্রমাণপত্র যুক্ত করা বাধ্যতামূলক। এই দুটি নথি থাকলেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে আর কোনও সমস্যা হবে না।এই বিশেষ ছাড় শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের সাতটি জেলার জন্য প্রযোজ্য। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং কোচবিহার জেলার চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকরাই এসআইআর পর্বে এই সুবিধা পাবেন।প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য প্রথমে মোট ১১টি নথি নির্ধারণ করেছিল নির্বাচন কমিশন। পরে আরও দুটি নথি যুক্ত করা হয়আধার কার্ড এবং বিহারের এসআইআর সংক্রান্ত নথি। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, উত্তরবঙ্গের বহু চা ও সিঙ্কোনা বাগানের শ্রমিকের কাছেই এই নথিগুলি নেই। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাঁরা বাগানের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আধুনিক পরিচয়পত্র অনেকের কাছেই অধরা।এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের সাত জেলার জেলাশাসকরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানান, যাতে বাগানের কাজের নথিকেই ভোটার তালিকাভুক্তির প্রমাণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অবশেষে সেই দাবিতে সায় দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন।এর পাশাপাশি, রাজ্যের প্রান্তিক এবং বিচ্ছিন্ন এলাকার মানুষের কথা মাথায় রেখে এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়াতেও বড় পরিবর্তন এনেছে কমিশন। ডিসেন্ট্রালাইজড হিয়ারিং সেন্টার বা বিকেন্দ্রীভূত শুনানি কেন্দ্র চালু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষও সহজে এসআইআর শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে কমিশন।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬
কলকাতা

কলকাতা হাইকোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতি কে? জানুন বিচারপতি সুজয় পালের পুরো প্রোফাইল

কলকাতা হাইকোর্টের নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন বিচারপতি সুজয় পাল। এতদিন তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। গত ৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের বৈঠকে তাঁর নামেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পদে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়।প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম অবসর নেওয়ার পর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে ছিলেন বিচারপতি সুজয় পাল। তার আগে এই পদে ছিলেন বিচারপতি সৌমেন সেন। পরে তাঁকে মেঘালয় হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হলে সেই পদে আসেন বিচারপতি সুজয় পাল।বিচারপতি সুজয় পালের জন্ম একটি প্রবাসী বাঙালি পরিবারে। তবে তাঁর বেড়ে ওঠা মধ্যপ্রদেশে। তিনি এলএস ঝা মডেল স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে রাণি দুর্গাবতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সেখান থেকেই আইন বিষয়ে পড়াশোনা করে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি।আইনজীবী হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার পর ২০১১ সালে তিনি জব্বলপুরে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন। পরে তাঁর ছেলে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করায় তাঁকে তেলঙ্গানা হাইকোর্টে বদলি করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২৬ মে বি আর গাভাইয়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টে বদলির সুপারিশ করে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতির অবসরের পর আর কোনও বাঙালি বিচারপতি এই পদে আসেননি। সেই পরিস্থিতি এখনও বদলাল না। নতুন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ফের এক নতুন অধ্যায় শুরু হল বলে মনে করছেন আইন মহলের একাংশ।

জানুয়ারি ১২, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal